,



হঠাৎ করেই স্তনে পরিবর্তন, বিপদ নয়তো!

Spread the love

নারী স্তন। শব্দটা ছোট্ট, অথচ কী তার দ্যোতনা। স্তন মানে যেন শরীরের নিছক একটি অঙ্গ নয়, এ যেন অনেক রহস্যের, অনেক কৌতূহলের, অনেক শঙ্কার, অনেক ভালোবাসার এক অনন্য আধার। কখনো এই স্তন মায়ের, কখনো প্রেমিকার, কখনো গণিকা’র, কখনো অধরা চিত্রতারকার, কখনোবা চলতি পথে খুব সাধারণ কারো। একই স্তন, অথচ কত বিচিত্র তার আবেদন, কত বৈচিত্র্যময় তার ব্যবহার। কখনো স্তন মাতৃমূর্তির প্রতীক, কখনো যৌনতার, কখনো দাম্পত্যের, কখনো বা কিশোর মনেও কেমন শিহরণ জাগানো দু’খণ্ড মাংসপিণ্ড।

এই নিয়ে কত গান, কত কবিতা, কত নাটক, কত চলচ্চিত্র, কত স্বপ্ন, কত বিকৃতি। এই স্তনকে ঘিরে কত ভাস্কর্য, কত চিত্রকরের বিনিদ্র রজনী। শরীরের এই অঙ্গকে ঘিরে কত পণ্য, কত বাণিজ্য, কত পরিচর্যা। সব মিলিয়ে স্তন যেন নারীর নিজস্ব কোনো অঙ্গ নয়, এ যেন এক পণ্য সবার জন্য। কেউ একে ঢেকে রাখে সযতনে, কেউবা বিকোয়। কত শিশুর ঠোঁট, কত কামার্তের দাঁত, কত তরুণের লোভী চোখ তাকিয়ে রয় এদিকে। এ যে এক অন্য জগত, অন্য চিত্র। নারীর এ স্তনেই রয়েছে তার সন্তানের প্রথম খাদ্য। তবুও যেন এই স্তনের ব্যাপারেই অধিকাংশ নারীরাই অসচেতনতা। বিশেষ করে রোগের ব্যাপারে। স্তনের কিছু পরিবর্তন বয়ে নিয়ে আসতে বিপদের বার্তা। তাই চিনে নিন কিছু লক্ষণ এবং হোন সতর্ক।

কুঁচকে যাওয়া
স্তনের চামড়া কুঁচকে যাওয়া বা টোল খাওয়া বড় বিপদের লক্ষণ হতে পারে। এটি স্তন ক্যান্সারের প্রধান লক্ষণগুলোর মধ্যে অন্যতম। তাই হেলাফেলা না করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন।

চাকা অনুভব
পিরিয়ড শেষ হবার পর স্তন পরীক্ষা করা খুবই জরুরি। কারণ এ সময়টাতেই পরিষ্কারভাবে বোঝা যায় যে স্তনে কোনো চাকা বা গোটার উপস্থিতি আছে কি না। স্তনে চাকা অনুভূত হওয়া মাত্রই চিকিৎসকের কাছে যাওয়া উচিত। কারণ স্তন ক্যান্সার হলে স্তনে এক ধরনের চাকা হিসেবে দেখা দিতে পারে। শতকরা ৮০ শতাংশ বা তার চেয়ে বেশি ক্ষেত্রে নারীরা স্তনে চাকা অনুভব করে থাকে।

ফুসকুড়ি
ঘামাচির মতো ছোট ছোট ফুসকুড়িকে আমরা সাধারণত পাত্তা দিতে চাই না। কিন্তু এই ফুসকুড়ি যদি দেখা দেয় স্তনে, বিশেষ করে স্তনবৃন্তের আশেপাশে তাহলে মোটেও হেলাফেলা করা উচিত নয়। এটা হতে পারে স্তনে অ্যালার্জির লক্ষণ, এমনকি স্তন ক্যান্সারেরও। তাই অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

চুলকানি
স্তনের বিভিন্ন অংশ চুলকাচ্ছে? প্রথমেই বলে রাখি, স্তনের চামড়া ভীষণ পাতলা, তাই জোরে জোরে চুলকালে ছিলে যেতে পারে, কেটে যেতে পারে, রক্তপাতও হতে পারে। আর সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো চাপ লেগে রক্ত জমাট বেঁধে ব্যথা হতে পারে। তাই স্তনে ঘনঘন চুলকানি হতে থাকলে চিকিৎসকের কাছে যান।

কষ বা পুঁজ নিঃসরণ
স্তনবৃন্তের আশেপাশে কোনো ক্ষত বা স্তনবৃন্ত থেকেই যদি কষ বা পুঁজ নিঃসৃত হতে থাকে তাহলে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যান। কারণ এটা হতে পারে ক্যান্সারের মতো ভয়া রোগের উপসর্গ।

টোল পড়া
অনেকেরই স্তনের চামড়া ঢিলা থাকায় টোল পড়ে। কিন্তু এটাও মনে রাখা জরুরি যে, কুঁচকে যাওয়ার মতো টোল পড়াও কিন্তু বিপদ অর্থাত্‍, স্তন ক্যান্সারের লক্ষণ হতে পারে। আপনার স্তনে যদি হঠাত্‍ টোল পড়া শুরু করে তাহলে অতিসত্বর চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করুন।

অ্যালার্জি
স্তনে বিভিন্ন কারণে অ্যালার্জি হতে পারে। অনেক সময় অন্তর্বাসের কারণেও অ্যালার্জি হয়। অ্যালার্জি কারণ যা-ই হোক না কেন চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। কারণ আপনি যেটাকে সাধারণ অ্যালার্জি ভাবছেন সেটা হতে পারে স্তন ক্যান্সারের লক্ষণ। কারণ স্তন ক্যান্সারের একটি উপসর্গ হলো paget রোগ। এই অসুখে স্তনের চামড়াতে অ্যালার্জি বা এগজিমার মতো পরিবর্তন আসে। যেমন লালচে ভাব, স্তনের চামড়া ও রঙে পরিবর্তন আসা, স্তনের চামড়া উঠে যাওয়া ইত্যাদি।

অারো খবর