,



‘ময়মনসিংহে জুয়া বন্ধ করেছি, মাদকের সিন্ডিকেট ভেঙেছি’

Spread the love

‘ময়মনসিংহের ট্র্যাডিশনাল ক্রাইম ছিল জুয়া। যুগ যুগ ধরে এখানে জুয়া ও অসামাজিক কার্যকলাপ ছিল নৈমিত্তিক ঘটনা।’

নিরবিচ্ছিন্নভাবে কাজ করে প্রাতিষ্ঠানিক জুয়া বন্ধ করেছি। মাদকের বড় বড় সব সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়েছি। কিন্তু জেলা থেকে পুরোপুরি মাদক নির্মূল করতে পারিনি।

ময়মনসিংহ জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) হিসেবে সাড়ে ৩ বছরে নিজের সাফল্য ও ব্যর্থতার মূল্যায়ন এভাবেই করেছিলেন মঈনুল হক।

রোববার (২৪ জুলাই) বিকেলে নিজ কার্যালয়ে বাংলানিউজের সঙ্গে আলাপে এ কথা বলেন তিনি।

মঈনুল হক সম্প্রতি বদলি হয়েছেন ‘প্রাচ্যের ড্যান্ডি’ খ্যাত নারায়ণগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) হিসেবে। ক’দিনের মধ্যেই নতুন কর্মস্থলে যোগদান করবেন পুলিশের ২০তম ব্যাচের এ কর্মকর্তা।

বিভাগ হওয়ার আগে ময়মনসিংহ জেলার শেষ পুলিশ সুপার (এসপি) হিসেবেও আলোচিত তিনি।

ইতিবাচক, সৃজনশীল, অনুপ্রেরণা সঞ্চারী কর্মপ্রবাহ ও উদ্যোগের মাধ্যমে দায়িত্বশীল এ পুলিশ কর্মকর্তা ময়মনসিংহে দায়িত্ব পালনে সাফল্যের ধারা ও লক্ষ্য অর্জনে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছেন।

২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে পেট্রোল বোমার অন্ধকার রাজনীতির সময়ে ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার (এসপি) হিসেবে যোগদান করেন মঈনুল।

শক্ত হাতে দমন করেন নাশকতার রাজনীতি। ফলশ্রুতিতে এ চ্যালেঞ্জে সফলতার সঙ্গেই উত্তীর্ণ হন জেলা পুলিশের এ বড় কর্তা।

ওই সময় রাজনীতির নামে সন্ত্রাস-নৈরাজ্যের কারণে এখানকার ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষের মাঝে অনিশ্চয়তা ও ভীতি জেঁকে বসেছিল। গত কয়েক বছরে বিভিন্ন পর্যায়ের নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক আবহ ফিরে এসেছে।

মানুষজন এখন স্বাচ্ছন্দ্যে প্রাত্যহিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারছে, বলতে থাকেন বিদায়ী এ পুলিশ সুপার (এসপি)।

তিনি বলেন, এক সময় নগরীর পুরোহিতপাড়া এলাকা ছিল মাদকের অভয়ারণ্য। নগরীর কৃষ্টপুরকেন্দ্রীক দু’টি, ঈশ্বরগঞ্জের আঠারবাড়ি ও সোহাগিসহ মোট ৫ থেকে ৬টি বড় বড় সিন্ডিকেট ছিল।

নিয়মিত অভিযানের মাধ্যমে এসব সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়া হয়েছে। এ ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্তরা জেলে আছে। এখন পরিবেশ ভালো।

মাদক পুরোপুরি নির্মূল করতে না পারলেও পুলিশের নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছে। একই সঙ্গে নগরীতে ছিনতাই ও গফরগাঁও উপজেলার পাগলা থানা এলাকার ডাকাতি থেকে মানুষ পরিত্রাণ পেয়েছে।

মাত্র ছয়দিনের ব্যবধানে রাজধানীর গুলশান ও কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় ভয়াবহ জঙ্গি হামলার পরেও ময়মনসিংহের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বস্তিদায়ক বলেই মনে করেন পুলিশ সুপার।

তার ভাষ্যে, ধর্মীয় মৌলবাদের নামে সন্ত্রাসের আলামত ময়মনসিংহে নেই। আমার বিশ্বাস এখানে জঙ্গিবাদ মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারেনি।

কয়েক মাস আগেও শহরের কাছাকাছি এক জায়গা থেকে ৬ জন জেএমবি সদস্যকে গোপনে সংগঠিত হওয়ার প্রস্তুতি নেওয়ার সময়েই গ্রেফতার করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়।

‘একটি সংগঠনের নেতা-কর্মীরাই বিভিন্ন নামে জঙ্গি কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত হয়ে যান। সেইসব সংগঠন ও অর্থদাতাদের নজরদারিতে রাখা হয়েছে।
অর্ধশতাধিকের কাছাকাছি নেতাদের আগে থেকেই নজরদারিতে রাখা হয়েছে। গত সাড়ে ৩ বছরের অভিজ্ঞতায় যোগ করেন এসপি মঈনুল।

তবে দীর্ঘ সময়ে ময়মনসিংহে দায়িত্ব পালন করলেও নগরীর ট্রাফিক অব্যবস্থাপনার লাগাম টেনে ধরতে না পারার অতৃপ্তির কথাও অকপটে স্বীকার করেন বিদায়ী এসপি।

তার কথায়- ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আগের চেয়ে খারাপ হয়েছে। ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার সংখ্যা দিন দিন বাড়ছেই। এ ব্যাপারে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে সরকার ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত না নিলে আরো ভয়াবহ অবস্থা হবে।

প্রাচ্যের ড্যান্ডি নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার (এসপি) হিসেবে দায়িত্ব নিচ্ছেন, সেখানে প্রথমেই কোন কাজটি করতে চান এ প্রশ্নের উত্তরে বলেন, নারায়ণগঞ্জের মানুষের নিরাপত্তা প্রদানে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়াই হবে আমার প্রথম কাজ।

সেখানেও যেন মানুষজন ময়মনসিংহের মতোই স্বাচ্ছন্দ্যে দৈনন্দিন কাজ করতে পারে সেই কাজই করতে চাই।

অারো খবর