,



দেশের প্রথম শহীদ মিনার

Spread the love

ভাষা আন্দোলন থেকে মুক্তিযুদ্ধ, বাঙালির সব গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসে জড়িয়ে আছে রাজশাহী কলেজের নাম। ইতিহাস বলছে, বায়ান্নের আগে থেকেই রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে সোচ্চার ছিলেন রাজশাহী কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মচারীরা। ঢাকার ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সঙ্গে তাল রেখে রাজশাহীর ভাষা আন্দোলন পরিচালিত হতো বৃহৎবঙ্গের ঐতিহ্যবাহী এ কলেজ থেকেই।

কলেজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ড. নাজনীন সুলতানা বলেন, রাজশাহীর ভাষা সংগ্রামীদের দেয়া তথ্য মতে, ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি রাতে রাজশাহী কলেজ মুসলিম ছাত্রাবাসের প্রধান ফটকের পাশে দেশের প্রথম শহীদ মিনার নির্মাণ করা হয়েছিল। পরে সেটি তৎকালীন পুলিশ বাহিনী গুঁড়িয়ে দেয়। এটিই বাংলাদেশের প্রথম শহীদ মিনার যা ঐতিহাসিকভাবে সত্য।

কলেজের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ওলিউর রহমান বলেন, ভাষার দাবি আদায় হয়েছে বহু আগেই। বায়ান্নর পথ ধরে এসেছে একাত্তর। এরই মধ্যে পেরিয়েছে স্বাধীনতার দীর্ঘ সময়। তবুও আজো স্বীকৃতি পায়নি রাজশাহী কলেজে নির্মিত দেশের প্রথম এ শহীদ মিনার। কোনো রকমে এতদিন ধরে রাখা হয়েছে এ স্মৃতিস্তম্ভ। এটির পুনর্নির্মাণ ও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি রাজশাহীর মানুষের প্রাণের দাবি।

এদিকে দুই বছর ধরে ঝুলে আছে ভাষা শহীদদের স্মরণে নির্মিত দেশের প্রথম শহীদ মিনার পুনর্নির্মাণের কাজ। বরাদ্দ না পাওয়ায় শুরু হয়নি নির্মাণকাজ। রাজশাহী কলেজের মুসলিম ছাত্রাবাস চত্বরে প্রথম শহীদ মিনারের স্থানেই এটি পুনর্নির্মাণের কথা।

এটি বাস্তবায়নের কথা ছিল রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের (রাসিক)। রাসিক জানিয়েছে, ৫২ ফিট উচ্চতার নতুন মিনার নির্মাণ করার কথা ছিল। নির্মাণে ৫০ লাখ টাকা অর্থ বরাদ্দ দেন রাজশাহী সদর আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা।

২০১৫ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মহা. হবিবুর রহমানের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে বরাদ্দের চিঠি তুলে দেন এমপি। অবকাঠামো উন্নয়নে বরাদ্দ তহবিল থেকে এ অর্থ আসে। তবে শেষ পর্যন্ত অর্থ ছাড় না পাওয়ায় স্মৃতির মিনার নির্মাণে হাত দিতে পারেনি রাসিক।

বিষয়টি স্বীকার করে রাসিকের প্রধান প্রকৌশলী আশরাফুল হক বলেন, সংসদ সদস্য যে অর্থ বরাদ্দ দিয়েছিলেন সেটি ছিল ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন খাতের। ফলে শহীদ মিনার নির্মাণে তা ছাড় দেয়নি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। ফলে শহীদ মিনার নির্মাণকাজ আটকে যায়।

একই ভাষ্য রাজশাহী কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মহা. হবিবুর রহমানেরও। সংসদ সদস্য এখনও এটি নির্মাণে অর্থ বরাদ্দ আনার চেষ্টা করছেন বলে জানান অধ্যক্ষ।

সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশার ভাষ্য, ভাষা আন্দোলনের প্রতি অকৃত্রিম, গভীর শ্রদ্ধা থেকেই ওই স্থানে প্রথম শহীদ মিনারের আদলে দৃষ্টিনন্দন শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়। রাজশাহীতে ভাষা আন্দোলনের অবদানকে স্বীকৃতি দিতেই এ উদ্যোগ। এখনও তিনি এ কাজের অর্থ বরাদ্দের চেষ্টা করছেন।

 

অারো খবর