,



গ্রেফতার জঙ্গি মাহফুজ , তার রয়েছে ৩০০ অনুসারী

Spread the love

রাজশাহীতে বসে ঢাকার অভিজাত হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলার পরিকল্পনা করেছিলেন সোহেল মাহফুজ ওরফে হাতকাটা মাহফুজ ওরফে শাহাদত। তাকে আজ (শনিবার) চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি হলি আর্টিজান হামলার পরিকল্পনাকারী ও গ্রেনেড সরবরাহকারী ছিলেন।

জঙ্গি সংগঠন জামায়াতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ জেএমবির শীর্ষ নেতা মাহফুজের রাজশাহী অঞ্চলে প্রায় ৩০০ অনুসারী রয়েছে। তাদের ধরতে রাজশাহী অঞ্চলে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযানের জালে ধরা পড়েন মাহফুজ।

শনিবার ভোররাত ৩টার দিকে শিবগঞ্জ উপজেলার মোবারকপুর ইউনিয়নের পুষকিনি এলাকার একটি আমবাগান থেকে তিন সহযোগীসহ মাহফুজকে গ্রেপ্তার করা হয়। গোপন মিটিং করে স্থান পরিবর্তনের সময় পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে।

সোহেল মাহফুজের বাড়ি কুষ্টিয়ার কুমারখালী থানার সাদিপুর কাবলিপাড়া গ্রামে। তার বাবার নাম রেজাউল করিম। গ্রেপ্তার তার তিন সহযোগী হলেন- নব্য জেএমবির আইটি স্পেশালিস্ট শিবগঞ্জের আফজাল হোসেনের ছেলে হাফিজুর রহমান হাফিজ, শিবগঞ্জ উপজেলার পার্বতীপুরের চকমোহনপুর গ্রামের ইয়াছিন আলীর ছেলে অস্ত্র সরবরাহকারী মোস্তাফিজুর রহমান জামাল এবং একই উপজেলার বিশ্বনাথপুর কাটিয়াপাড়া গ্রামের এসলামের ছেলে জুয়েল।

তাদের গ্রেপ্তারের বিষয়ে শনিবার দুপুরে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি এম খুরশীদ হোসেন। তিনি জানান, সোহেল মাহফুজ বোমা বিশেষজ্ঞ ও নব্য জেএমবির শীর্ষ পর্যায়ের নেতা। জেএমবির হামলায় সে অস্ত্র ও বোমা সরবরাহ করে থাকেন।

ডিআইজি খুরশীদ হোসেন বলেন, ‘দীর্ঘদিন যাবৎ মাহফুজ রাজশাহী অঞ্চলে অবস্থান করে জঙ্গি তৎপরতা চালাচ্ছিল। মূলত রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নাটোর, বগুড়া ও গাইবান্ধায় তার চলাফেরা ছিল। এর মধ্যে রাজশাহীর গোদাগাড়ী, তানোর ও বাগমারায় বেশি অবস্থান করতো মাহফুজ। আমরা তাকে দীর্ঘদিন ধরেই টার্গেট করছি। অবশেষে তিন সহযোগীসহ চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ থেকে তাকে ধরা হয়েছে।’ সোহেলকে গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে উত্তরাঞ্চলে জঙ্গিদের নেটওয়ার্ক তছনছ হয়ে গেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

রাজশাহী অঞ্চলে মাহফুজের প্রায় ৩০০ এর বেশি অনুসারী রয়েছে। মাহফুজসহ তার অনুসারীদের গ্রেপ্তারে গত তিনদিন থেকে এ অঞ্চলে সাঁড়িশি অভিযানে নামে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। ইতোমধ্যেই অনেককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের এ অভিযানে ঢাকা থেকে আসা কাউন্টার টেরিরিজম ইউনিটের সদস্যরা সহযোগিতা করছে বলেও জানান ডিআইজি।

কে এই জঙ্গি সোহেল মাহফুজ?
কুষ্টিয়ার কুমারখালী থানার সাদিপুর কাবলিপাড়া গ্রামের রেজাউল করিম সোহেল মাহফুজ ২০০৫ সালের দিকে জেএমবির সাবেক শীর্ষ নেতা শায়খ আবদুর রহমান ও সিদ্দিকুল ইসলাম ওরফে বাংলা ভাইয়ের আমলে জঙ্গিবাদে জড়িয়ে পড়েন। তার জঙ্গিবাদে হাতেখড়ি হয় শায়খ আবদুর রহমান ও বাংলা ভাইয়ের আমলে।

পরে জেএমবির শীর্ষ ৬ জঙ্গির ফাঁসি কার্যকর হলে সংগঠনটির জেএমবির শুরা (নীতি নির্ধারণী) কমিটির সদস্যপদ পান মাহফুজ। এরপর ২০১০ সালের দিকে তখনকার জেএমবির প্রধান সাইদুর রহমান গ্রেপ্তার হলে নিজে আত্মগোপনে গিয়ে দীর্ঘদিন ধরে উত্তরাঞ্চলে জেএমবিকে নেতৃত্ব দিয়ে আসছিলেন মাহফুজ।

২০১৪ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি ময়মনসিংহে আদালতে নেয়ার পথে তিন জঙ্গিকে ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এই ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন এই সোহেল মাহফুজ। মাহফুজের সঙ্গে নারায়ণগঞ্জে নিহত নব্য জেএমবির সমন্বয়ক ও গুলশান হামলার মূল পরিকল্পনাকারী তামিম আহমেদ চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগ ছিল। মূলত তার আহ্বানে নব্য জেএমবিতে যুক্ত হয় তিনি। এরপর থেকে তিনি নব্য জেএমবির অস্ত্র কেনা, গ্রেনেড তৈরি এবং সরবরাহসহ আইটি শাখার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। বোমা তৈরি করতে গিয়ে সোহেল মাহফুজের বাঁ হাত বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে এক হাত দিয়ে আগ্নেয়াস্ত্র চালাতে পারদর্শী হয়ে ওঠেন তিনি।

অারো খবর