,



খালেদার পূর্ণাঙ্গ রায়ে, যা আছে!

Spread the love

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত হয়ে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বর্তমানে কারাবন্দি রয়েছেন। বিগত একমাস যাবৎ এ মামলা এবং মামলা সংক্রান্ত বিষয়ই দেশের আলোচনার একেবারে কেন্দ্র বিন্দুতে ছিলো। এখনও মামলা, রায়, খালেদার জেল, বিএনপির নেতৃত্ব এসবই যেন দেশের আলোচনার প্রধান বিষয়।

এরমধ্যে সোমবার বিকেলে পাওয়া গেছে রায়ের কপি। এরপর থেকে জনসাধারণের মনে প্রশ্ন, কী আছে পুর্ণাঙ্গ রায়ে।

রায়ের পর্যবেক্ষণে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক ড. মো. আখতারুজ্জামান বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানসহ মামলার ছয়জন আসামি প্রত্যেকেই কোনো না কোনোভাবে লাভবান হয়েছেন।

তারা রাষ্ট্রীয় অর্থনৈতিক অপরাধী হিসেবে গণ্য হবেন। অর্থনৈতিক দুর্নীতি রাষ্ট্রের অর্থনীতির স্বাভাবিক গতিকে ব্যাহত করে এবং এর বাজে প্রভাব সমাজের প্রতিটি স্তরে সংক্রামিত হয়।

রায় ঘোষণার ১২ দিন পর আজ সোমবার বিকেল ৪টার দিকে মামলার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেন বিচারক। এরপর খালেদা জিয়ার আইনজীবীদের হাতে ৪ টা ২৫ মিনিটে মামলার রায়ের কপি হাতে তুলে দেন আদালতের পেশকার মোকাররম হোসেন। এরপর পরই দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজলের হাতেও মামলার রায়ের কপি তুলে দেয়া হয়।

রায়ের পর্যবেক্ষণে বিচারক বলেন, নথি পর্যালোচনায় প্রমাণিত হয় খালেদা জিয়া এ দেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী। তিনি স্বীকৃত মতেই সরকারি কর্মচারী। বাকী উপাদানগুলো এই মামলায় উপস্থিত আছে বলে ইতোমধ্যেই লক্ষ্য করা গেছে। ফলে খালেদা জিয়ার পক্ষে যে সমস্ত যুক্তি উপস্থাপন করা হয়েছে তা বাস্তবতার নিরীখে গ্রহণ করার কোনো কারণ নেই।

এছাড়াও আসামিদের পক্ষে দাবি করা হয়েছে যে, তিনি (খালেদা জিয়া) আইনের বিধান লঙ্ঘন করেন নাই এবং সে দুইটি ট্রাস্টের অর্থ প্রদান করেছেন তাও সঠিক আছে। কিন্তু নথির পর্যালোচনায় আসামিপক্ষ উপস্থাপিত যুক্তি গ্রহণ যোগ্য হয়নি। কেননা সরকারি এতিম তহবিলের টাকা বিধি মোতাবেক এতিমদের কল্যাণে ব্যয় করা উচিত ছিল। কিন্তু খালেদা জিয়া তার ব্যত্যয় ঘটিয়ে নাম সর্বস্ব জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট্রের অনুকূলে ২ কোটি ৩৩ লাখ ৩৩ হাজার ৫০০ টাকা স্থানান্তর করেন।

মামলার আসামিরা পরস্পর যোগসাজসে এতিম তহবিলের ২ কোটি ৭১ লাখ ৬৩৪ টাকা আত্মসাত করেছেন। পরিমাণের দিক থেকে এর বর্তমানমূল্য অধিক না হলেও ঘটনার সময়ে ওই টাকার পরিমাণ অনেক বেশি ছিল। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট নামে কোনো এতিম খানার অস্তিত্ব পাওয়া যায় নাই। সেখানে কোনো এতিম বসবাস করে না। এতিম খানার কোনো দালান-কোঠা বা স্থাপনা নেই। ফলে আসামিদের কোনো যুক্তি গ্রহণ যোগ্য নয়। রাষ্ট্রের যুক্তি গ্রহণযোগ্য।

সব কিছু বিবেচনা করে এটা প্রতিয়মান হয় যে, আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি ৪০৯ ও ১০৯ এবং দুদকের আইনের ৫ (২) ধারা প্রমাণিত হয়েছে। ৪০৯ ধারার বিধান মতে সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড অথবা যে কোনো বর্ণনায় কারাদণ্ডের মেয়াদ ১০ বছর পর্যন্ত হতে পারে। আসামিরা একে অপরের সহযোগিতায় অর্থনৈতিক অপরাধ করেছেন এবং সে কারণে তাদের সর্বোচ্চ সাজা দিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করা প্রয়োজন। তবে আসামিদের বয়স ও সামাজিকতা অবস্থান এবং আত্মসাৎকৃত টাকার পরিমাণ বিবেচনায় গ্রহণ করে তাদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করা সমীচীন হবে না মর্মে আদালত মনে করেন। আসামি খালেদা জিয়া এ দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। রাজনৈতিক দলের কর্ণধার, বয়স্ক মহিলা, শারীরিক ও সামাজিকতা বিবেচনায় তাকে ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং তারেক রহমানসহ বাকিদের ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন।

অন্যদিকে ১৮৯৭ সালের জেনারেল ক্লজেস অ্যাক্ট এর ২৬ ধারায় বিধান বিবেচনায় আসামিদের যে কোনো একটি আইনে দণ্ডিত করে আদেশ প্রচার করা বিধান বলে আদালত মনে করেন।

উল্লেখ্য,  জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ৫বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

এ মামলায় বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ১০ বছর কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার বেলা আড়াইটার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন মামলার বিচারক ঢাকার পঞ্চম বিশেষ জজ মো. আখতারুজ্জামান।

মামলার অন্যান্য ৫ আসামীকেও ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

সাজা প্রাপ্ত অন্য আসামীরা হলেন- সাবেক সাংসদ ও ব্যবসায়ী কাজী সালিমুল হক কামাল, সাবেক মুখ্যসচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ ও জিয়াউর রহমানের বোনের ছেলে মমিনুর রহমান। মামলায় শুরু থেকে পলাতক আছেন তারেক রহমান, কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও মমিনুর রহমান।

রায়ে সাজাপ্রাপ্ত প্রত্যেকের ২কোটি ১০লক্ষ ৭১ হাজার টাকা সমপরিমান জরিমানাও ধার্য করা হয়েছে।

 

অারো খবর