,



ই-ম্যারেজ সিস্টেম এবং কিছু ভাবনা

Spread the love

কেস-১: বগুড়ার রোমেলা আশুলিয়ার একটি পোশাক কারখানায় কাজ করে। ১ বছর ধরে সে এখানে আছে।  রোমেলার কারখানায় হিমেল নামে একটি ছেলে জয়েন করেছে।  হিমেলের গ্রামের বাড়ি যশোর। তারা দুজনে পাশাপাশি কাজ করে।  প্রথমে চোখাচোখি, তারপর হালকা কথাবার্তা; আর এভাবেই একসময় দুজনেই দুজনার হয়ে যায়। হঠাৎ করেই স্থানীয় একটি কাজী অফিসে গিয়ে তারা দুজনে বিয়ে করে। হিমেল প্রতি মাসেই গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে যায়।  রোমেলাও যেতে চাই তার সাথে; কিন্তু নানা বাহানা দেখিয়ে সে একাই যায় ।  একবার গ্রামের বাড়িতে গিয়ে হিমেল আর ফিরে আসে না।  মোবাইলও বন্ধ।  রোমেলা হতাশ হয়ে পড়ে।  কোন উপায় খুঁজে পাচ্ছিলো না।  অনেক খোঁজাখুঁজির পর অন্য একটি কারখানায় হিমেলের এক বন্ধুকে পাওয়া গেল।  তার কাছ থেকে ঠিকানা সংগ্রহ করে রোমেলা হাজির হলো হিমেলের গ্রামে। সেখানে গিয়ে সে জানতে পারলো হিমেল বিবাহিত। তার একটি সন্তানও আছে।   ডিজিটাল এই বাংলাদেশে আমরা কি পারি না ইনফরমেশন  টেকনোলজি দিয়ে হাজারো হিমেলের ২য় বিবাহ আটকাতে ? আমরা কি পারি না হাজারো  রোমেলাকে এ ধরণের ধূর্ত লোকের খপ্পরে পড়া থেকে বাঁচাতে? উত্তর হলো অবশ্যই পারি।

কেস-২: অপ্সরা একটি বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানে কর্মরত। বয়স ৩০ হলেও দেখতে এখনো অপ্সরার মতোই।  অফিসের সবাই জানে যে সে এখনো সে অবিবাহিত । অফিসের বস তার  বিদেশ ফেরত ছেলে ইন্দ্রর  সাথে অপ্সরার বিয়ের প্রস্তাব করেন। অপ্সরাও রাজি হয়।  ঢাকার একটি নামী কনভেনশন হলে তাদের বিয়ের অনুষ্ঠান হয়।  সুখেই কাটছিলো তাদের দিন।  একদিন ব্যক্তিগত একটি কাজে ইন্দ্র অপ্সরাদের গ্রামে যাই।  সেখানে গিয়ে সে জানতে পারে অপ্সরার এর আগেও বিয়ে হয়েছিল।  ১ বছর টিকেছিল সে সংসার।  এ কথা জানার পর ইন্দ্র ক্ষেপে যায়।  সে কোনভাবেই অপ্সরার এই তথ্যগোপন মেনে নিতে পারে না।  সুখের সংসারে ফাঁটল দেখা দেয়।  শেষ পরিণতি হয় ডিভোর্স।  সবকিছু জেনে যদি সংসারটি শুরু হতো তাহলে হয়তো তাদের পথচলা দীর্ঘ হতো। আমরা কি পারতাম না অপ্সরার এই তথ্য গোপনের চেষ্টা রুখে দিতে। ডিজিটাল এই বাংলাদেশে একটি ডিজিটাল উদ্যোগই পারে বিবাহ সংক্রান্ত   নানানা সমস্যার সমাধান দিতে।

উপরে উল্লেখিত ২ টি ঘটনার মতো বাংলাদেশে হাজারো বিবাহকেন্দ্রীক ঘটনা ঘটছে যা বিভিন্ন পারিবারিক ও সামাজিক সমস্যা তৈরী করছে।  ডিজিটাল বাংলাদেশে ছোট্ট একটি উদ্যোগ এই সমস্যার সমাধান ঘটাতে পারে নিমিষেই।  সহজ করতে পারে বিবাহ এবং বিচ্ছেদের সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া।   সমাধানটা আসলে কী ? সমাধান হলো “ই-ম্যারেজ সিস্টেম “।

 

ই-ম্যারেজ সিস্টেম কী ?

বিবাহ হলো দুইজন বিপরীত লিঙ্গের মানুষের মধ্যে একটি  বন্ধন যা সামাজিক ও ধর্মীয়ভাবে স্বীকৃত যেটি  স্বামী-স্ত্রী এবং পরবর্তীতে তাদের সন্তান এবং আত্মীয়দের মধ্যে অধিকার ও দায়িত্ব প্রতিষ্ঠা করে(হ্যাভিল্যান্ড , উইলিয়াম এ ,২০১১) ।বাংলাদেশে  সরকার কর্তৃক স্বীকৃত  রেজিস্ট্রার যারা স্থানীয়ভাবে কাজী নামে  পরিচিত তাদের নিকট কাবিননামা  ও আনুসাঙ্গিক ফরম পূরণ  করে এই বিবাহ বন্ধন সম্পন্ন  হয়। যখন এই বিবাহ  নিবন্ধন , বিচ্ছেদ বা ডিভোর্স  একটি ওয়েবসাইটের মাধ্যমে সম্পদিত হয় এবং অনলাইনেই  সার্টিফিকেট প্রদান করা হয় তখন সেটিকে ই-ম্যারেজ সিস্টেম  বলা হয় (মাএ  কুইকেন্ডল ও আডাম ক্যান্ডাউব,২০১৩) ।

 

প্রথাগত বিবাহ ও বিচ্ছেদ নিবন্ধন ব্যবস্থার অসুবিধা কী ?

মুসলিম বিবাহ ও বিবাহ বিচ্ছেদ (নিবন্ধন) আইন, ১৯৭৪ (Muslim Marriage and Divorce (Registration) Act, 1974),এর বিধান মতে প্রত্যেকটি বিবাহ নিবন্ধন করা বাধ্যতামূলক এবং এই উদ্দেশ্যে সরকার ম্যারেজ রেজিস্ট্রার নিয়োগ করিবেন। প্রত্যেক বিবাহ রেজিস্ট্রার সরকারের নির্ধারিত পদ্ধতিতে প্রতিটি বিবাহ এবং তালাক এর পৃথক নিবন্ধন বজায় রাখবেন। হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন আইন, ২০১২ তে বলা হয়েছে “অন্য কোন আইন, প্রথা ও রীতি-নীতিতে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, হিন্দু বিবাহের দালিলিক প্রমাণ সুরক্ষার উদ্দেশ্যে হিন্দু বিবাহ, বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে, নিবন্ধন করা যাইবে”। প্রথাগত  বিবাহ নিবন্ধন এবং বিবাহ বিচ্ছেদ ব্যবস্থায় বিভিন্ন সমস্যার উদ্ভব  ঘটে যা আমরা ২ টি কেস স্টাডির মাধ্যমে ইতোমধ্যে জেনেছি। প্রথাগত বিবাহ ও বিচ্ছেদ নিবন্ধন ব্যবস্থার অসুবিধা হলো :

১. ভুয়া বিবাহ ২. বহু বিবাহ ৩. অপ্রাপ্ত বয়সে বিবাহ ৪. তথ্য গোপন করে বিবাহ ৫. দেনমোহর কেন্দ্রিক সমস্যা ৬. ম্যারেজ সার্টিফিকেট প্রাপ্তিতে বিলম্ব ও সমস্যা ৭.বিচ্ছেদ ব্যবস্থায় জটিলতা   ৮.  বিবাহ ও বিচ্ছেদ সংক্রান্ত ডাটাবেজ ও পরিসংখ্যান না থাকা ৯. প্রকৃত রাজস্ব থেকে সরকারের বঞ্চিত হওয়া ইত্যাদি।

১. ভুয়া বিবাহ : অনেক সময় প্রতারণার উদ্দেশ্যে ভুয়া কাজী বা  ভুয়া উকিল এবং  ভুয়া কাগজপত্র ব্যবহার করে বিশেষ করে ছেলেরা ভুয়া বিবাহ করে।  নির্দিষ্ট সময় শেষে মেয়েটি জানতে পারে বিয়েটি ভুয়া ছিল।  তখন মেয়েটি আইনগত কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে না। ভুয়া বিয়েতে সহপাঠীর সঙ্গে বসবাস, জগন্নাথের ছাত্র গ্রেপ্তার (bangla.bdnews24.com/campus/article1219430.bdnews) এর সংবাদটি একটি বাস্তব প্রমাণ।  ভুয়া বিবাহ প্রতিরোধে ই-ম্যারেজ সিস্টেম  একটি রক্ষাকবচ হতে পারে।

২. বহু বিবাহ:  ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ এর ৬ ধারায় বহু বিবাহের জন্য বর্তমান স্ত্রীর অনুমতি নেয়ার বাধ্যবাধকতার বিষয়টি সুস্পষ্টভাবে বলা হয়েছে।কিন্তু বাংলাদেশে বর্তমান স্ত্রীর অনুমতি না নিয়ে বা তাকে না জানিয়ে বা গোপনে  অনেকেই  বহু বিবাহ করে থাকেন। অধিকাংশ ক্ষেত্রে নতুন স্ত্রী জানতে পারেন না যে তার স্বামীর বর্তমান স্ত্রী রয়েছে বা তিনি পূর্বে  বিবাহ করেছিলেন।  পুরুষের ক্ষেত্রেও এটি ঘটতে পারে।  একজন পুরুষ না জেনেই কোন  মেয়েকে বিয়ে করে পরে জানতে পারেন তার স্ত্রীর পূর্বে বিয়ে হয়েছিল যা পারিবারিক কলহের সৃষ্টি করে যা আমরা কেস-২ তে  দেখেছি।  বহু বিবাহ প্রতিরোধে ই-ম্যারেজ সিস্টেম  একটি রক্ষাকবচ হতে পারে।

৩. অপ্রাপ্ত বয়সে বিবাহ :  জাতিসংঘ শিশু তহবিল (ইউনিসেফ) কর্তৃক প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী বাংলাদেশে ১৮ বছরের আগে ৬৬ শতাংশ মেয়ে এবং একই বয়সের ৫ শতাংশ ছেলের বিয়ে হচ্ছে। ইউনিসেফের তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশে ১০-১৯ বছর বয়সের দুই তৃতীয়াংশ কিশোরী বাল্য বিবাহের শিকার হয়। সেভ দ্যা চিলড্রেন এর ২০১০ সালে প্রকাশিত এক প্রতিবেদন অনুযায়ী বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলের ৬৯ শতাংশ নারীর ১৮ বছর বয়স হওয়ার আগেই বিয়ে হয়ে যাচ্ছে।জাতীয় কন্যা শিশু অ্যাডভোকেসি ফোরাম এর তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশে বাল্য বিবাহের হার ২০০৯ সালে ছিল ৬৩ শতাংশ, যা ২০১৩ সালে এসে বেড়ে ৬৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।  জাতীয় পরিচয়পত্র  বা বয়স প্রমানের অন্যান্য  দলিল জাল বা নকল করে  বয়স বেশি দেখিয়ে,এই বাল্য বিবাহ বৈধ হিসেবে দেখানো হয়।   এই প্রতিবেদনগুলো আমাদের দেশের  অপ্রাপ্ত বয়সে বিবাহের ভয়াবহতা তুলে ধরেছে। সম্প্রতি  আগের  মতোই মেয়েদের কমপক্ষে ১৮ বছর এবং ছেলেদের ২১ বছর বয়স বেঁধে দিয়ে ‘বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন-২০১৬’ পাশ হয়েছে।   বাল্য বিবাহ নিরোধ আইন ২০১৬ এর বিশেষ বিধান বলে যুক্তিসংগত কারণে মা-বাবা বা আদালতের সম্মতিতে অন্যূন ১৬ বছর বয়সী কোনো নারী বিয়ে করলে সে ক্ষেত্রে সে অপরিণত বয়স্ক বলে গণ্য হবে না। এখন ১৫ বছরেই জাতীয় পরিচয় পত্র দেবার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সুতরাং অপ্রাপ্ত বয়সে বিবাহ নির্মূল করতে হলে জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যভান্ডার ব্যবহার করে ই-ম্যারেজ সিস্টেম একটি যুগান্তকারী সমাধান দিতে পারে।

৪. তথ্য গোপন করে বিবাহ: নিজের পরিচয় ,বিবাহের ইতিহাস, নিজ এলাকা ইত্যাদি গোপন করে অনেকেই বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হচ্ছে। অনেক রোহিঙ্গা নিজেদের পরিচয় গোপন করে এদেশে বিয়ে করছে যা নিয়মিত পত্রপত্রিকায় আসে।  তথ্য গোপন করে বিবাহ ঠেকাতে ই-ম্যারেজ সিস্টেম এর জাতীয় ডেটাবেজ নিঃসন্দেহে সহায়তা করতে পারে।

 ৫. দেনমোহর কেন্দ্রিক সমস্যা: অনেকসময় বিয়ের সময় যে পরিমান দেনমোহর ঘোষণা করা হয় একটি পক্ষ কৌশলে কাজীর সহয়তায়  কাবিননামায় তার চেয়ে কম বা বেশি  উল্লেখ করতে পারে। । নগদে না বাকি সেটা উল্লেখ থাকলেও পরবর্তীতে পরিশোধের উপায় উল্লেখ থাকে না বা কাবিন নামায় প্রদর্শিত হয় না।   ই-ম্যারেজ সিস্টেম থাকলে বিবাহের সময় দুইটি পক্ষই সকল তথ্য দেখতে পেত এবং যেকোনো সময় তথ্য হালনাগাদ করা যেত।

 ৬. ম্যারেজ সার্টিফিকেট প্রাপ্তিতে বিলম্ব ও সমস্যা : বর্তমান ব্যবস্থায় ম্যারেজ সার্টিফিকেট পেতে অনেক সময় লাগে।  অনেক সময় রিসিট হারিয়ে যায়।  বিভিন্ন সময় হটাৎ ম্যারেজ সার্টিফিকেট প্রদর্শনের প্রয়োজন হলেও ম্যারেজ সার্টিফিকেট সাথে থাকে না।  আবার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বিবাহিত না অবিবাহিত যাচাই করতে চাইলেও সহজে যাচাই করতে পারে না।  ই-ম্যারেজ সিস্টেম এ সহজেই এবং যেকোন সময় যেকোন স্থানে সার্টিফিকেট নামানো এবং যাচাই করার সুযোগ থাকবে।

৭। বিচ্ছেদ ব্যাবস্থায় জটিলতাঃ  প্রেমের বিয়ে অথবা এরেঞ্জ বিয়ে যেকোনটির ক্ষেত্রেই মধুর সম্পর্ক এক পর্যায়ে তিক্ত হয়ে উঠতে পারে। একটি তিক্ত সম্পর্কের অবসান স্বেচ্ছায় অথবা অন্য যেকোনোভাবে ঘটতে পারে যা ডিভোর্স বা বিবাহ বিচ্ছেদ নামে পরিচিত। বর্তমান ব্যাবস্থায়  বিবাহ বিচ্ছেদ একটি জটিল ও দীর্ঘস্থায়ী প্রক্রিয়া । ই-ম্যারেজ সিস্টেমে ডাটাবেজের তথ্য ব্যবহার করে সহজেই কোন অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতির সৃষ্টি না করে বিবাহ বিচ্ছেদ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যায় ।
৮। বিবাহ এবং বিচ্ছেদ সংক্রান্ত ডাটাবেজ পরিসংখ্যান না থাকাঃ বাংলাদেশের বিবাহ নিবন্ধন এবং বিচ্ছেদ প্রক্রিয়া অফলাইনে সম্পাদিত হয়। অনলাইন ডাটাবেজ না থাকাই প্রতিবছর কতটি বিবাহ সম্পন্ন হচ্ছে, কোন এলাকায়  কতটি, গড় বিবাহের বয়স ইত্যাদি যেমন তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায় না  তেমনি কতটি ডিভোর্স হচ্ছে ,কোন বয়সে ডিভোর্স বেশি হচ্ছে, কোন পেশার বর-কনের ডিভোর্সের হার বেশি ইত্যাদিও জানা যায় না । ই-ম্যারেজ সিস্টেমে এ ধরনের সকল তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যাবে যা বিভিন্ন সিদ্ধান্তগ্রহণে অগ্রণী ভূমিকা রাখবে।
৯। প্রকৃত রাজস্ব থেকে সরকারের বঞ্ছিত হওয়াঃ অনেকসময় কাজীরা বেশি কমিশন বা চার্জ আদায় করলেও সেটি সরকারি কোষাগারে জমা হয় না। কত টাকা দেনমোহরে কত টাকা কমিশন আসে সেটাও সাধারণ জনগণ জানে না । ই-ম্যারেজ সিস্টেমে সকল খরচ ও চার্জের অনলাইন ভাউচার তৈরি হবে, ফলে সরকার প্রকৃত রাজস্ব পাবে এবং জনগণও আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হবে না ।

 

ই-ম্যারেজ সিস্টেম কীভাবে কাজ করবে ?

ই-ম্যারেজ সিস্টেম হবে বাংলাদেশ সরকারের একটি ডেডিকেটেড ওয়েব সাইট। ইউজার আইডি এবং পাসওয়ার্ড দিয়ে সাইটটি ব্যবহার করা যাবে। বাংলাদেশের প্রতিটি নিবন্ধিত কাজী,উকিল এবং প্রশাসনিকভাবে জড়িত ব্যাক্তিদেরকে ইউজার আইডি এবং পাসওয়ার্ড সরবরাহ করা হবে। কোন এলাকার জন্য কারা নিয়োজিত সেটাও সিস্টেমে ফিক্সড করে দেওয়া হবে। বিবাহ নিবন্ধনের জন্য কাজীসাহেব বা নিবন্ধক ইউজার আইডি এবং পাসওয়ার্ড দিয়ে ওয়েব সাইটে প্রবেশ করবেন। তিনি পাত্র বা বরের জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর লিখে সার্চ করবেন। বরের জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর সঠিক হলে ছবিসহ সকল তথ্য প্রদর্শিত হবে। বরের বিবাহ স্ট্যাটাসও দেখা যাবে। বরের বয়স ২১ বছর হয়েছে কিনা সেটাও সাইটে প্রদর্শিত হবে। বরের অন্যান্য তথ্য কাজী সাহেব এই পেজে ইনপুট দিবেন। বরের সাথে পাত্রী বা কনেকে লিঙ্ক করার জন্য লিঙ্ক মেনুতে ক্লিক করে পাত্রীর জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর লিখে সার্চ করতে হবে। জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর সঠিক থাকলে কনের বিবাহ স্ট্যাটাসসহ সকল তথ্য দেখা যাবে। কনের প্রয়োজনীয় তথ্য এই পেজে ইনপুট দিতে হবে।এরপর কাজী দুজনের আইডি লিঙ্ক করবেন। পাত্র এবং পাত্রীর মোবাইল নাম্বারে কনফার্মেশনের জন্য আলাদা আলাদা কোড আসবে। কোড ২ টি কনফার্মেশন পেজে লিখে কনফার্ম করতে হবে।উকিল এবং সাক্ষীদের মোবাইল নাম্বারও এভাবে ভেরিফাই করা হবে। মোবাইল ব্যাংকিং বা ই-টোকেন ব্যবস্থার সাহায্যে সকল পেমেন্ট সম্পন্ন হবে। বর-কনের ছবি ও সাক্ষর আপলোডের ব্যবস্থা থাকবে। সবকিছু সম্পন্ন হলে অনলাইনে ম্যারেজ সার্টিফিকেট প্রদর্শিত হবে। সার্টিফিকেটটি প্রিন্ট এবং ডাউনলোড করা যাবে। পরবর্তীতে সার্টিফিকেট ডাউনলোড এর জন্য প্রয়োজনীয় কোড নম্বর ও পাসওয়ার্ড বর ও কনের মোবাইলে এসএমএস এর মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হবে। ১৬ বছরের মেয়েকে বিয়ে দেবার যে বিশেষ বিধান আছে সেক্ষেত্রে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের অনুমোদন নিতে হবে যেটি সিস্টেমের সাথে সমন্বিত থাকবে।

 

টেবিল 1: ই-ম্যারেজ মডিউল

ই-ম্যারেজ ওয়েব সাইট

 

নিবন্ধকের ইউজার আইডি এবং পাসওয়ার্ড ব্যাবহার করে ই -ম্যারেজ ওয়েব সাইটে প্রবেশ জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর দিয়ে বর ও কনেকে সার্চ করে লিঙ্ক করে দেওয়া
 
ম্যারেজ সার্টিফিকেট জেনারেট ও প্রিন্ট

 

ই-পেমেন্ট পদ্ধতিতে আর্থিক লেনদেন সম্পাদন

 

মোবাইলে প্রাপ্ত কোডের মাধ্যমে কনফার্মেশন

 

 

ই-ম্যারেজ সিস্টেমের চ্যালেঞ্জঃ

ডিজিটাল বাংলাদেশ স্লোগান সামনে রেখে বাংলাদেশ এগিয়ে চললেও  বাংলাদেশের জনগণ এখনো তথ্য ও প্রযুক্তি  বিষয়ে সচেতন নয়। তথ্য ও প্রযুক্তি অবকাঠামো এখনো শক্তিশালী হয় নি।  ই ম্যারেজ সিস্টেম চালু করতে করতে হলে প্রত্যেকটি নিবন্ধক বা কাজী এবং উকিলদেরকে কম্পিউটার এবং ইন্টারনেট সংযোগের আয়তায় আনতে হবে যা একটি ব্যয়বহুল প্রকল্প।আমরা জানি অধীকাংশ নিবন্ধক বা কাজী আলিম পাশ যাদের তথ্য ও প্রযুক্তি জ্ঞান নেই বললেই চলে।  নিবন্ধক বা কাজী এবং উকিলদেরকে নিয়মিত যথাযথ প্রশিক্ষণও প্রদান করতে হবে যা একটি ব্যয়বহুল ও সময়সাপেক্ষ ব্যাপার।  ই ম্যারেজ সিস্টেমে বর  ও কনের  মোবাইল ফোন থাকতে হবে। এটিও একটি চ্যালেঞ্জ। মোবাইল ব্যাংকিং বা ই-টোকেন ব্যবস্থা উন্নয়ন করতে হবে। ই ম্যারেজ সিস্টেমে বিবাহিত এবং বিচ্ছেদের পুরাতন তথ্য সংযুক্ত না করতে পারলে এটির যথাযথ সুবিধা পাওয়া যাবে না।  কারণ একজন বিবাহিতের জাতীয় পরিচয়  পত্র নম্বর দিয়ে  যদি প্রথমবার ই ম্যারেজ সিস্টেমে এ সার্চ করা হয় তাহলে তার বিবাহিত স্ট্যাটাস দেখাবে না।  এ জন্য জাতীয় পরিচয় পত্রের যে ডেটাবেজ যেটি নির্বাচন কমিশনের অধীন সেটি আপডেট করতে হবে।  এটিও একটি ব্যয়বহুল ও সময়সাপেক্ষ ব্যাপার।  বর্তমানে হ্যাকিং ও  ক্র্যাকিং যেভাবে বেড়েছে তাতে তথ্যের নিরাপত্তা বিধান করার একটি চ্যালেঞ্জ।

 

ই-ম্যারেজ সিস্টেমের  সম্ভাবনা:

বাংলাদেশের জনগণ প্রতিনিয়ত তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ে সচেতন হচ্ছে। দেশে ১ কোটি ৭০ লাখ ফেসবুক ব্যবহারকারী রয়েছে এবং দেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় পাঁচ কোটি (দ্য ইন্টারনেট সোসাইটি ) । এ থেকেই বোঝা যায় এ দেশে তথ্য ও প্রযুক্তি ব্যবহারকারী যেমন বাড়ছে তেমনি তারা সচেতনও হচ্ছে।  সরকার জনগণকে সচেতন করার জন্য নিয়মিত কাজ করছে।    বাংলাদেশের প্রায়  সাড়ে চার হাজার ইউনিয়ন পরিষদে ইন্টারনেট সেন্টার চালু হয়েছে। এই সেন্টারগুলোকে ই-ম্যারেজ হাব হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। বাংলাদেশে এখন  মোবাইল ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১৩ কোটি (বিটিআরসি)  । সুতরাং বর-কনের মোবাইল থাকার যে শর্ত সেটা নিঃসন্দেহে পূরণ হয় কারণ প্রাপ্ত বয়স্ক জনসংখ্যা নিশ্চয় ১৩ কোটি নয় । ২ অক্টবর,২০১৬ থেকে  স্মার্ট আইডি কার্ড বিতরণ শুরু করেছে বাংলাদেশ  নির্বাচন কমিশন।  এই স্মার্ট কার্ডে ২০ ধরণের তথ্য  থাকবে।  এই তথ্যের মধ্যে বিবাহিত না অবিহিত বা ডিভোর্সি কিনা তাও উল্লেখ থাকবে।  সুতরাং ই-ম্যারেজ সিস্টেম জাতীয় পরিচয় পত্রের ডেটাবেজ ব্যবহার করে সহজেই বিবাহের ইতিহাস যাচাই করতে পারবে। মোবাইল ব্যাংকিং বা ই-টোকেন ব্যবস্থা ইতোমধ্যে প্রতিটি গ্রাম এবং মহল্লায় ছড়িয়ে পড়েছে।  মোবাইলের মাধ্যমেই  ই-ম্যারেজ সিস্টেমের আর্থিক লেনদেন সম্পাদনের নেটওয়ার্ক গড়ে উঠেছে।

বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীন এটুআই প্রকল্পের মাধ্যমে অসংখ্য উদ্ভাবনী ধারণা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। আশা করবো  কর্তৃপক্ষ ই-ম্যারেজ সিস্টেমের মতো একটি সম্ভাবনাময় প্রকল্প বাস্তবায়নে অগ্রণী হয়ে ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মানে আরও একধাপ এগিয়ে যাবে।

অারো খবর