,



অবনির শেষ শব্দ-শেখ ইলোরা হোসেন

অবনির শেষ শব্দ-শেখ ইলোরা হোসেন

Spread the love

গল্প গুলো ভাবনা হযে উড়ে উড়ে যায়।রৌদ্রটা সরে গিয়ে সুন্দর বিকেল উপহার দেয়।দিনের আবহাওয়া পরিবর্তন হওয়ার সাথে সাথে জমে উঠে আড্ডাটা।রোজকার মতো বিকেলের আড্ডা ভালই জমিয়েছে নীরব।হ্যা! নীরব, নাম নীরব হলে কী হবে! নীরব কখনোই নীরব থাকে না।
মজার মজার জোক্স,হাসি ঠাট্টায় জমেছে আসর।বন্ধুরা সবাই আড্ডায় মেতে উঠেছে।আড্ডাও জমে উঠেছে বেশ। আর এরই মধ্যে চলছে আবির আর অবনির প্রেম।বন্ধুরাও মাঝে মাঝে তাদের প্রেমে খোঁচা মারতে ছারছে না।
গল্পের নায়ক/নায়িকা আবির এবং অবনি, দুজন যেন দুজনাতে মিশে গেছে।
এতো মিল দুজনের, হয়তো তাই এতটা আপন করে নিয়েছে দুজন দুজনকে। সব মিলের মধ্যে একটা অমিল আছে তা হলো রং।
অবনির গাড় নীল আর নীরবের পিচ রং।

গল্পের মাঝে হুট করে অবনি বলে উঠলো

-আজ উঠিরে।
সব নিশ্চুপ হয়ে হা করে তাঁকিয়ে আছে!
-তোদের আবার কী হলো?
-যখনই আড্ডা মেতে উঠে তখনই তোর যেতে ইচ্ছে করে?
-নারে! বেশী রাত হয়ে গেলে মা বকবে!
আবির হাত ধরে টেনে বসালো।
-ঢং করবি না বস
-জ্বি না সোনা ঢং করছি না।
কথাটা বলেই হাটা শুরু করলো অবনি।
-এই শোন! শোন, শুনে যা বলছি,
অবনিকে ডাকতে ডাকতে আবিরও পিছু পিছু ছুটলো।
-কিরে তুই, এলি কেন আড্ডা ছেরে?
-পাগলি, তোকে ছেড়ে, (কথাটা পুরোপুরি বলার আগেই, অবনির জবাব)
-হুম হয়েছে।
-শোন কাল তোর জন্য একটা সারপ্রাইজ আছে,
-সত্যি!কী সারপ্রাইজ আছে বল না?
-গাধা! বললে সারপ্রাইজ হলো।
-ওহ তাইতো
আবির/অবনি পাশাপাশি বাসায় থাকে। দুবছরেরও বেশী হলো ওদের সম্পর্কের। তবে এখনো পরিবারের কেউ জানেনা।এই জন্য বেশ লুকিয়ে,চুরিয়ে চলতেও হয় ওদের। কারন অবনির অবস্থা বেশ ভাল কিন্তু সেই তুলনায় আবিরেরের একটু কম! তাই অবনীর পরিবার থেকে আবিরকে মেনে নেয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।তবে! মজার ব্যাপার হলো আবিরের মা অবনীকে খুভ ভালোবাসে।

পরদিন সকাল বেলা…
পিচ রং এর শাড়ী পরে ভার্সিটি এলো অবনি। রুপের সাথে তাল মিলিয়ে শাড়ীও যেন হেসে বেড়াচ্ছে। অবনির রূপ যেমন ঝলসে দিচ্ছে চোখ,মন, তেমনি শাড়ীও কম কিসে।অবনীর কাঁধে ব্যাগ,হাতে একটা বই।অবনী ও আরো দুই বান্ধবি গল্প করতে করতে ক্যাম্পাসের ভিতরে হাঁটছে। কোথাও যেন কোন ভ্রুক্ষেপ নাই। শুধু গল্প।
নিঝুম বললো ওই দেখ ভাইজান  অবনি দেখেও না দেখার ভান করে হাঁটছে আর মুচকি হাসছে !
আবির অবনির দিকে এক দৃষ্টিতে তাঁকিয়ে আছে।এদিকে হার্ট সেন্টারে বেজে চলছে রবী ঠাকুরের- চোক্ষে আমার তৃষ্ঞা ওগো! তৃষ্ঞা আমার বক্ষ জুড়ে…
অবনি কাছে এসে বইটা দিয়ে আবিরে মাথায় একটা চাটি মারলো।আবিরের যেন হুস ফিরলো।
-উফ! এসব কী?
-এমন করে, শকুন দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছিস কেন?
-শকুন দৃষ্টি না প্রেমীক দৃষ্টি তুই কী করে বুঝলি!
সজিব বলে উঠলো-এটা প্রেমেরই দৃষ্টি দাদা।মওকা পাওয়ার সাথে সাথে পলক গেয়ে উঠলো- এ বেড়া ভাঙ্গবো আমি কেমন করে?
সব অট্ট হাসিতে মেতে উঠলো।
তখনও দুজনের দৃষ্টি যেন একে অপরের চক্ষুকে যাদু করেছে! দৃষ্টিপাতে কোথাও কোন কমতি নেই।
-তোকে অনেক সুন্দর লাগছে।
ওপাশ থেকে সুন্দর না দাদা সুন্দরী লাগছে। সবাই আবার  হাসিতে মেতে উঠলো।এবার দুজনের দৃষ্টি থেকে ঘোর কাটলো। লজ্জাপেয়ে আবির জ্বিভ কাটলো,টোল পরা গালে মুচকি হাসলো অবনী।

-আচ্ছা তুই আজকে এতো সেঁজেছিস কেন রে!
-তোর জন্যরে পাগল!
-ওরে আমার পাগলি রে!
বন্ধুরা আবার শুরু করে দিলো ওদের নিয়ে ফাজলামো।
-চল কোথাও যাই?
নীরব গেয়ে উঠলো -এই মেঘলা দিনে একলা এখানে থাকে নাতো মন…!
-তোরা এখানে বসে পাগলা মারকা গান গাইতে থাক আমরা চললাম।

আবির ঘুরতে অনেক পচ্ছন্দ করে।এর আগেও অবনিকে নিয়ে অনেক সুন্দর সুন্দর যায়গা গুলোতে ঘুরে বেড়িয়েছে আজও তার বেতিক্রম কিছু নয়।মুক্ত আকাশের নিচে,সবুজ ঘাসের বুকে আয়েস করে দুজন বসলো। প্রকৃতির মাঝে চলে আসার পর যেন সব কিছু কেমন পবিত্রতায় মিশে যায়।হঠাৎ আবির অবনিকে জড়িয়ে ধরলো। অবনি ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিল…
-তুই এমন করলি কেন, অবনী?
-আমার ইচ্ছে
-তোর ইচ্ছেই সব, আমার কোন ইচ্ছে নেই?
-তুই এমন করলে কিন্তু আমি চলে যাবো আবির।
আবির শান্ত হলো।অবনির কোলে মাথা রাখলো।
-আচ্ছা কিছু করবো না, এটুক তো পারি?
অবনী চুপ।
আবিরের সবকিছুই অবনির ভালো লাগে শুধু ওর এই কাছে টানা অবনির ভালো লাগে না।হয়তো আবির অবনিকে একটু বেশিই ভালোবাসে তাই এমন করে। কী জানি মাঝে মাজে ওকে বুঝতে পারি না!
-কিরে চুপ কেন তুই?
-না এমনি, তুই বল শুনি…
-চল আমাদের ভালোবাসার একটা নাম দেই!
-তোর কী মাথা খারাপ? আচ্ছা তুই কী রে সামনে পরিক্ষা তা নিয়ে কী তোর কোন টেনশান নাই?
-না নাই। আমি এভাবে আর থাকতে পারবো না।
-দেখ! আবির উল্টা-পার্টা কথা বলবি না।
-উল্টা-পাল্টা কথা আমি বলছি না।
-চল,এখানে আমার ভালো লাগছে না।
আচ্ছা, আর শোন আজ রাতে তোর উত্তর চাই।
রাত পার হলো,অন্ধকার কাটিয়ে আলো ফুটে উঠলো।সকাল কাটিয়ে দুপুর ছুই ছুই।কিন্তু অবনির কোন উত্তর নেই।
পরিবারের কথা,মায়ের কথা ভাবতে লাগলো অবনি।এদিকে ফোনের উপর ফোন করছে আবির।সেদিকে কোন ভ্রুক্ষেপ নেই অবনির।একটা কলও ধরলো না। এদিকে আবির রেগে গিয়ে ফোনটা আছার দিয়ে ভেঙ্গে ফেললো।পরদিন ভার্সিটিতে গিয়ে দেখা গেল আবিরের চোখ লাল।মনে হচ্ছে রেগে আছে বেশ! অবনি একটা চিরকুট দিলো।
-ক্লাস শেষে, পুকুর পাড়ে দেখা করিস।
অবনি আবিরে সামনে গিয়ে দাড়ালো।আবির চুপ।অবনি বললো-আমি রাজি।আবির খুশিতে ওকে জড়িয়ে ধরলো।অবনি আবারো ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিল। আবির আজ কিছু বললো না।

দিনের আলো কেটে যায় সময় পেরিয়ে যায়। আলো ঝলমলে শহরে নিয়ন বাতির আড়ালে গড়ে উঠে প্রেম,গড়ে উঠে এক অন্য ভালোবাসার নাম।কখনো হতাশা ডাকে ম্লান হয়ে, কখনো স্মৃতি থাকে স্নান হয়ে।
আবির অবনির ভালোবাসার নাম হলো।নিয়ন বাতির আড়ালের ভালোবাসার নাম।শহরের আবাসিক হোটেলের করিডোরে জমে থাকা আবেগ কিংবা স্মৃতি মিশ্রিত অনুভুতি নিয়ে গড়ে উঠে এক অন্য ভালোবাসা।গড়ে উঠে ভালোবাসার নতুন নাম। আচ্ছা ভালোবাসার আর কী নাম হতে পারে? ভাবনার সাগর পারি দিয়ে, চলতে থাকলো আবির/অবনির ভালোবাসা।

সেদিনকার কথা, সামনেই পরিক্ষা। অনেক তোর জোর নিয়ে পড়তে হবে। বাসায় বললো বান্ধবীর বাসায় মিলে একসাথে পড়বে অবনি।পরিক্ষার আর মাসখানিক বাকি।যদিও অবনি বরাবরই ভালো ছাত্রি। কিন্তু আবির তেমন ভালো ছাত্র নয়।
হঠাৎ একদিন রাতে খুব খারাপ লাগছে অবনির্। বমিও করেছে।নিজের অবস্থা দেখে অবস্থান বুঝতে বেগ পেতে হলো না অবনির। আবির কে সব খুলে বললো।শুনে তো আবিরের মাথা নষ্ট হওয়ার উপক্রম।আবির রেগে গেল।
-তুই খেয়াল রাখবি না।
-দেখ,পড়ার টেনশনে আমার এসব খেয়াল নাই।
আবির অস্থির হয়ে পড়লো…
-দেখ! অবনি আমাদের এখনি কিছু করা দরকার। চল ডাক্তার এর  কাছে যাই। এই বাচ্চাটা রাখা সম্ভব না।
কথা গুলো যেন বুলেটের মতো অবনির কানে ঢুকে ব্রেন সেন্টার চিরে ছিন্ন ভিন্ন করে দিচ্ছে। অবনি শুনে অবাক!
-তুই কী বলছিস জানিস।তুই এই শিশুটির বাবা। তুই বাবা হয়ে এই কথাটি বলতে পারলি কী করে।
-আমার পক্ষে সম্ভব না।
অবনির চোখে জল, সামনে পরিক্ষা কী করবে ভেবে পাচ্ছে না। অবনি খুব সাহসী মেয়ে।কোন ভাবে পরিক্ষা শেষ হলো।অবনির চোখে আবিরের পরিবর্তন ফুটে উঠছে ক্রমে ক্রমে।
সময় যায়,আকাশ চায়,
চোখের কোনে জল,
স্মৃতি ধুয়ে চোখের জলে,
ভালোবাসার ফল।
কবিতাটা অনেকবার শুনেছে অবনি, আজ যেন নিজেকে ওই কবির কবিতার মতো লাগছে।সময়ের সাথে সাথে অবনির পরিবর্তন আসছে।অবশেষে অবনির মায়ের কাছে ধরা পড়লো অবনি।অবনি মায়ের কাছে কিছু না লুকিয়ে সব খুলে বললো।কথা গুলো শুনে মায়ের চোখে জল চলে এলো। অবনী বুঝতে বাকি রইলো না তার কারনে মা অনেক কষ্ট পেয়েছে।আস্তে আস্তে বাড়ির সবাই জানলো। ভাইরা তো অনেক রাগা-রাগি করলো।অবনি সারাদিন কান্নাকাটি করে। মা কে বোঝানোর চেষ্টা করে।
অস্থির সময়ের সাথে তাল  মিলিয়ে অবশেষে মা ভাইদের বোঝানোর পর,আবিরের বাসা থেকে কথা সেরে ঘরোয়া ভাবে সম্পন্ন হলো তাদের সম্পর্কের অবস্থান।
আবিরের বাসায় যাওয়ার পর,অবনি অনেক পরিবর্তন দেখলো আবিরের।
অবনির একটা ছোট্ট সুন্দর ছেলে বাচ্চা হলো।দুই পরিবারের সবাই খুব খুশি।শুধু খুশি দেখা যাচ্ছে না আবিরের চোখে। ধিরে ধিরে আবির যেন দূরে সরে যাচ্ছে।

একই রুমে একই বিছানায় তিনজন।সবার চোখে যখন একটা সুন্দর পরিবার, আবির আবনির কাছে কেবলই নিশ্চুপ অবস্থান।এভাবেই নিরবতায় কেটে যাচ্ছে সময়।

ছয় মাস পার হয়ে সাতে পা রাখলো।আবির এখন একদমই অবনির নেই।অবনি ঠিক বুঝতে পারছে না। কেন এমন হচ্ছে।আবিরের কাছে কোন জবাব নেই।একদিন রাতে হুট করে আবির বলেই ফেললো,
-অবনি আজ থেকে তুমি মুক্ত,তোকে আজ আমি আমার বাধন থেকে মুক্তি দিলাম।
অবনি ভাবছে আমি কি ভুল শুনলাম? অগ্নিমূর্র্ত অবনি চুপ।রাতটা কাটলো এক গভির নিস্তব্ধতায়।
পরদিন সকাল বেলা…
-মুক্তি তো দিয়েই দিলি,
-একটা দিন তোকে কাছে চাই, দিবি একটু সময়।
-আবির মাথা নারিয়ে হা বোধক সাইন দিলো।
-এই দিনটা শুধু আমার।
আমি যা বলবো তুই তা করবি।একটা দিন এটুকু করতে পারবি না।আর কোনদিন আমি তোকে সমস্যায় ফেলবো না।তোর থেকে সময় চাইবো না।
-হ্যা! ঠিক আছে। কী করতে হবে?
-তুই আজ সারাদিন আমাদের সাথে বাইরে কাটাবি।
-আমাদের মানে?
-আমি,তুই আমাদের ছেলে আর তোর ছোট বোন!
-কিন্তু ওরা কেন?
-এমনি।
আবিরের বোন টা একটু বোকা টাইপের, বোকা না ঠিক সহজ সরল।
সবাই একসাথে বের হলো। গন্তব্য জানা নেই। না জানে একজন! অবনি জানে কোথায় নিয়ে যাচ্ছে।
-কোথায় যাচ্ছি আমরা?
-চল গেলেই বুঝবি।
-তোর কোন চেনা যায়গা?

আবির অবনির সম্পর্কের শুরুটা এই যায়গায় বেশী আসা হতো।বিশাল নদী।চারিদিক সবুজ।নদরি গভীরতা অনেক বেশি।আবির অবনি দু’জন সেতুর উপর দাড়ালো।
আবির দাড়িয়ে আছে,অবনি একটু দূরত্ব রেখে আবিরের পাশে দাঁড়ালো। সম্পর্কের শুরুতে ওরা এই যায়গায় একজন আরেকজনের গা ঘেসে দারাতো। এখন সেখানে অনেক দূরত্ব।
দুজনেই বেশ চুপ-চাপ!
-জানিস আবির আমি না অনেক বোকা।তুই কখনো আমাকে ভালোবাসিসনি অথচ দেখ আমি তোকে মন প্রান উজার করে ভালোবাসলাম।তোর কাছে আমার জন্য কোন ভালোবাসাই ছিলো না। শুধু ছিলো আমাকে কাছে পাওয়ার লোভ।
-তুই জানিস ভালোবাসা কাকে বলে?
না তুই জানবি কী করে।ভালোবাসা কাকে বলে, সেই জানে যে ভালোবাসে।সেই জানে ভালোবাসার গভীরতা কত!আমি তোকে ভালো বেসেছি, না থেকেও ভালোবেসে যাবো।

-কিন্তু তোর কী হবে জানিস?
আবির চুপচাপ কোন কথা বলছে না। অবনী বলেই চলছে…
-আজকের পর থেকে তোর প্রতিটি সময় কাটবে এই নদীর তীরে!
আবিরের কানে শব্দটা তীর বেগে ছোটে।অবাক হয়ে তাকায় অবনির দিকে!কিন্তু আবিরের দৃষ্টি ফেরানোর আগেই আবিরের বোন চিৎকার দিয়ে উঠলো। ততক্ষনে আবিরের বাচ্চাটাও পানির গভির রাজ্যে মিলিয়ে গেছে। আবির অবনির হাত ধরে টান দিয়ে বাচ্চাটার দিকে যাবে, কিন্তু কিছু সময়ের মাঝে পলক ফিরিয়ে দেখে অবনি নেই! কেমন যেন ধোঁয়ায় মিশে গেল। কিছুই বুঝতে পারছে না কি হচ্ছে! আবির দৌড়ে পানিতে ঝাপ দিল। এখানে সেখানে খুজতে লাগলো।অবশেষে  পারে এসে বসলো। আবির চিৎকার করে কাঁদতে লাগলো। চিৎকারের শব্দে, যেন সব কিছু স্তব্ধ হয়ে গেলো। আবির কেঁদেই চলছে… এ কি হল আবিরের সাথে? অবনি যাবার আগে যা বলছিল, তাই কি হল? কারন অবনির ভালবাসা ছিল সত্য, অবনির ভালবাসাকে ঠুকরে আবির আজ পাগল প্রায়, সত্যি তার প্রতিটা দিনই কাটে এই নদীর পাড়ে। এভাবেই চলছে আবিরের জীবন…

অারো খবর